জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তার গর্ভবতী কন্যার ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ওই বিএনপি নেতাসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগের অভিযুক্তরা হলেন- মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮), মো. আজিজুর সরকার (৫০), মো. আবু কালাম (৩৫), মো. জনি চৌধুরী (৩৮), মোছা. শাপলা বেগম (৩০) ও মোছা. সালেহা বেগম (৫৫)। তারা সবাই ক্ষেতলাল উপজেলার রামপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। এতে তার হাত ও পা গুরুতর জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এক আসামি ভুক্তভোগীর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং এ সময় তার কানে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের সোনার দুল (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর গর্ভবতী কন্যা মোছা. সাবরিন সিফা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইন (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত মা ও কন্যাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কন্যার অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছে কিন্তু আমি বা আমার কোনো লোকজন তাকে আঘাত করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলম সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হবে।’