চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিষদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও মেয়রের চেয়ার ছাড়ছেন না ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই পদত্যাগ করবেন। দল যদি তাকে প্রার্থী ঘোষণা করে, সে ক্ষেত্রে অটোমেটিক তাকে পদ ছাড়তে হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে এমন আলোচনা ওঠার প্রেক্ষিতে বিষয়টি সামনে আসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ নেই। পূর্বে যে প্রশাসক দায়িত্বে ছিলেন, তাকে সরিয়েই তাকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে আর প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই বলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চাইলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পারবেন। তবে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চান। অনেক বছর ধরে যে নির্বাচনের অপেক্ষা করেছি, সেই নির্বাচন চাই। আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই—যোগ করেন তিনি।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন) ২০০৯–এর ৬ ধারা অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে করপোরেশনের মেয়াদ পাঁচ বছর—সে হিসাবে পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ।
তবে ওই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে মামলা করেন শাহাদাত হোসেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশের পর ৩ নভেম্বর তিনি শপথ নেন এবং ৫ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালত পূর্ববর্তী মেয়াদ অবৈধ ঘোষণা করায় তার মেয়াদ শপথের দিন থেকে গণনা হবে। ফলে ২০২৯ সালের আগে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রশ্ন নেই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে একমাত্র তিনিই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।