ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে বসে ইফতার করছেন। রমজান এলেই সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দেখা যায় ভিন্ন এক আবহ। পবিত্র রমজানের সংযম ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে দরগাহ চত্বরে আয়োজন করা হয় গণইফতারের। সাতশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য রমজানজুড়ে মুসাফিরদের জন্য অব্যাহত থাকে।
আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মাজার সারা বছরই ভক্ত-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। তবে রমজান মাসে প্রাঙ্গণটি রূপ নেয় গণইফতারের মিলনমেলায়। দুপুর গড়াতেই লঙ্গরখানায় শুরু হয় রান্নার ব্যস্ততা। বিশাল ডেগে প্রস্তুত করা হয় ভুনা কিংবা পাতলা খিচুড়ি, সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী আখনি। খেজুর, ছোলা ও পেঁয়াজিও থাকে ইফতারের তালিকায়।
বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকেন মাজার চত্বরে। ইফতারের আগে সারি সারি বসে পড়েন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যাদের অনেকেই ‘মুসাফির’ নামে পরিচিত। নির্ধারিত সময়ের সাইরেন বাজতেই সবাই একসঙ্গে ইফতার শুরু করেন। মুহূর্তেই পুরো এলাকা হয়ে ওঠে সৌহার্দ্য আর সাম্যের এক অনন্য দৃশ্যপট।
ভক্ত-দর্শনার্থীদের মতে, এখানে ইফতার করা কেবল খাদ্য গ্রহণ নয়, এটি আত্মিক প্রশান্তিরও এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পবিত্র এ স্থানে ইফতার করার মাধ্যমে অনেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের প্রত্যাশা করেন।
মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, সাতশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই গণইফতারের ব্যবস্থা। বংশপরম্পরায় মোতোয়ালি পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় লঙ্গরখানা। প্রতিদিন অন্তত পাঁচশ মানুষ ইফতার ও সাহরিতে অংশ নেন। শুধু মুসলমান নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই আয়োজনে যুক্ত হন।
মাজারের খাদেম মুফতি এ এস শামীম আহমদ বলেন, রমজান মাসে এখানে যে গণইফতার হয়, তা বহু পুরোনো ঐতিহ্য। ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করেন—এটাই এই আয়োজনের মূল সৌন্দর্য।
ধনী-গরিবের বিভাজন ভুলে এক কাতারে বসে ইফতার করার এই দৃশ্যকে সিলেটবাসী অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দেখছেন।