বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩ টায় পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তার এ জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা জনগণের সরকার চায় না, দেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায়, তারা এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর মিথ্যাচার করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে অনেক মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমার দেশের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে পাচার করেছে স্বৈরাচার সরকার। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেব না। মুখে হাত ভরে দিয়ে সব বের করে নিয়ে আসবো।’ এ সময় যারা জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।
তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমীর বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল । যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে।’
নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মায়েদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল-সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা উপজাতি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, অপনাদের প্রিয় নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মানের নির্বাচন। তাই গনভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামী’ এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণাহীন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর ২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর ৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
পরে পিরোজপুর-১ ও ২আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দলীয় প্রতিক দাড়িপাল্লা, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।