লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়া একটি শিশুর ওপর দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের হামলার খবরটি গুজব বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, শিশুটি হামলার শিকার নয়, বরং সড়ক দুর্ঘটনার শিকার।
আহত শিশুর নাম মেহেদী হাসান (১২)। সে সদর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের মনির আহাম্মেদের ছেলে এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বুধবার দুপুরে সদর ও রায়পুর উপজেলার দালালবাজার ও সোনাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মহাদেবপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির ওপর রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
শিশু মেহেদী হাসান ও তার মা লাভনী আক্তার দাবি করেন, ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকরা তাকে মারধর করেছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৫-৬ জন যুবক শিশুটির পথরোধ করে হুমকি দেয় এবং মারধর করে একটি গর্তে ফেলে রেখে যায়।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও শিশুটির সহপাঠীরা জানান, মেহেদী হাসান সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি দেখে ভয় পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের গর্তে পড়ে যায়। এতে সে আহত হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে একটি টিউবওয়েলে হাত-পা ধুয়ে দেয় এবং পাশের একটি বাড়িতে কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।
সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলেই নিশ্চিত করেছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কেজেমী বলেন, শিশুটির ওপর হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজব। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে দেখেছে, সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজি দেখে গর্তে পড়ে শিশুটি আহত হয়েছে। কেউ তাকে হামলা করেনি। নির্বাচনের সময় দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য এমন গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমীন ভূইয়া এ ধরনের গুজবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।