মাগুরা শহরের বেবী প্লাজা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক রাতেই ছয়টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে দোকানের শাটার ও তালা ভেঙে নগদ টাকা, দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস, ছিট কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে কোনো একসময় এ চুরির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসায়ীরা মার্কেটে এসে দোকানের শাটার ও তালা ভাঙা দেখতে পান। ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে এই চুরির ঘটনায় ছয়টি দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্লাস গার্মেন্টসের মালিক মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি বাসায় চলে যান। সকালে ফোনে দোকানে চুরির খবর পেয়ে মার্কেটে এসে দেখেন, তার দোকানসহ মোট ছয়টি দোকানের শাটার ও তালা ভাঙা। চোরেরা তার দোকানের ক্যাশবক্স থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাপড় লুট করেছে।
বেবী প্লাজা মার্কেট কমিটির সভাপতি নান্নু মুন্সি বলেন, জেন্স গ্যালারি, নিউ ফ্যাশন, প্লাস পয়েন্ট, বিভা গার্মেন্টস, মহনা গার্মেন্টসসহ মোট ছয়টি দোকানে চুরি হয়েছে। তার ধারণা, সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এসব দোকানে চুরি করেছে।
এদিকে বেবী প্লাজা মার্কেটের পাশের এলাকাতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এর একদিন আগেও একই এলাকায় আরেকটি দোকানে একই ধরনের চুরি হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে চৌরঙ্গী মোড়ের শিমুল স্টোরেও চুরির ঘটনা ঘটে।
মাগুরা জেলা বণিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক রাজা বলেন, একের পর এক দোকানে চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। দোকানে চুরি হলে তাঁদের পুঁজি ও ব্যবসা দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, বেবী প্লাজা ও চৌরঙ্গী মোড় গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা। এসব স্থানে নাইটগার্ড ও পুলিশি পাহারা থাকার পরও কীভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে, তা ব্যবসায়ীদের কাছে বোধগম্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিন পরপরই জেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশি টহল এবং চোরচক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চুরির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজের মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।