ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (৩৩) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহতের ঘটনায় জামায়াতের এক নেতার ছেলেসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিন ছাড়া গ্রেপ্তার হন তোফাজ্জল হোসেন, তার ছেলে হুমায়ুন কবীর আকাশ। এ ছাড়া মনিরুল ইসলাম নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে মধ্যপাড়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় রানা মিয়া তার ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের এক স্বজন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পর থেকেই জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সোমবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে মফিদুল ইসলাম মাস্টার ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালান।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় মফিদুলের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন। এ ঘটনায় আশাদ, মোফাজ্জল, শাহান, মুনসুর আলী, শাকিল ও দিনি মিয়াসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।