নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এখন যেন এক সোনালি সমুদ্র। বাতাসে দোল খাচ্ছে পাকা বোরো ধান, আর সেই সঙ্গে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কৃষকের মুখের হাসি। বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মৌসুমে দিন-রাত পরিশ্রমে ব্যস্ত সময় কাটছে হাওরের মানুষের।
হাওরের বুকজুড়ে এখন শুধু ধান কাটার শব্দ—কাস্তের ঝনঝনানি আর কৃষকের হাঁকডাকে মুখর চারদিক। প্রকৃতির এই রূপ যেন একদিকে উৎসব, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে লড়াই।
এই ব্যস্ত মৌসুমে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হাওরে ছুটে যান নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। শনিবার সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলার ডেঙ্গুড় হোতা হাওরে গিয়ে তিনি নিজ হাতে ধান কাটেন এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকরাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভরসা। তাদের যেকোনো সংকটে সরকার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, সবকিছু এতটা স্বস্তির নয়। কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে আগাম ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। এতে ধান কাটায় ব্যাঘাত ঘটছে, আর সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকের কথায়, ‘ধান পেকেছে, কিন্তু পানি নামছে না—এই অবস্থায় দ্রুত কাটতে না পারলে সবই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথা জানান। পাশাপাশি কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে, শঙ্কার মাঝেও হাওরের জীবন থেমে নেই। চারদিকে এখন উৎসবের আমেজ—ধান কাটার ব্যস্ততা, খেত থেকে বাড়ি পর্যন্ত ফসল তোলার দৃশ্য, আর মানুষের মুখে পরিশ্রমের তৃপ্তি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই সোনালি স্বস্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
হাওরের এই মৌসুম যেন শুধু ফসল তোলার সময় নয়, এটি কৃষকের আশা, সংগ্রাম আর জীবনের গল্পের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।