শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় অনুমোদনহীন একটি সেমাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে কারখানাটিতে অনিবন্ধিতভাবে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) উপজেলার সোহেলকান্দি এলাকায় অবস্থিত আর.এম ফুড প্রোডাক্টস নামের সেমাই কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের নিবন্ধন বা অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল।
অভিযানের সময় দেখা যায়, কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই খাদ্যপণ্য উৎপাদন করছেন। অনেকের হাতে গ্লাভস, মাথায় ক্যাপ বা মাস্ক ছিল না। উৎপাদন কক্ষেও ছিল অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। খাদ্য সংরক্ষণের স্থানেও যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর জেলার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমান। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য।
এ সময় জাজিরা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক লাইলী আক্তার এবং আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহায়তা করেন।
এদিকে সেমাই কারখানায় অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজীরহাট বাজারে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাজারের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেউ যদি আইন অমান্য করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন বা বিক্রি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।