গত বছর ইসফাহান শহরে পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, ইরান বা অন্য কোনো গোষ্ঠী এখন সেখান থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা তথ্যটি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরান এখন অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি পথ দিয়ে ওই ইউরেনিয়াম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে গ্যাস আকারে সিলিন্ডারে জমা রাখা এই ইউরেনিয়াম তারা কত দ্রুত সরিয়ে নিতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক ইসফাহান কেন্দ্রের ওপর নজর রাখছে। ইরান সরকার বা অন্য কোনো গোষ্ঠী যদি তা সরানোর চেষ্টা করে, তাহলে তারা তা শনাক্ত করতে পারবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইউরেনিয়ামের এই মজুত হবে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় ইরান যখন বিপর্যস্ত, তখন এই ইউরেনিয়ামের ভাগ্য এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য জটিল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত করতে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন কি না।
জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা তাদের (ইরানিদের) ধ্বংস করে দিচ্ছি। আমরা এখনো সেটি (ইউরেনিয়াম) উদ্ধারের কথা ভাবছি না। এটি এমন কিছু যা আমরা পরে করতে পারি; এখনই নয়।’
সেদিন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার অন্যতম কারণ— দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পগুলোকে মাটির এত গভীরে নিয়ে যাওয়া, যা যেকোনো হামলা থেকে নিরাপদ বা সুরক্ষিত থাকতে পারে।
গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে তীব্র বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু তখন সেই ইউরেনিয়াম উদ্ধারের চেষ্টা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেছিলেন, সেই মুহূর্তে এমন পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতো।
শনিবার ট্রাম্প এই অভিযানের ঝুঁকির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এ ধরনের অভিযানের জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমি বলব, আমরা যদি কখনো এটি করি, ইরানিরা তখন এতটাই ধ্বংস হয়ে যাবে যে, স্থল পর্যায়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় তারা থাকবে না।’