ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই নামটাই যেখানে উত্তেজনার প্রতীক, সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার ঘন কুয়াশায় ঢাকা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি বিসিবি।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) তিনি জানান, দুবাইয়ে শনি-রবি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায়, সোম বা মঙ্গলবারের দিকে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে আশা করছে বিসিবি। বুলবুল বলেন, শেষ চিঠিতে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত যে জটিলতাগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যেই ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন জল্পনা—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা থেকে সরিয়ে ভারতের অন্য ভেন্যুতে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু এতে কি বরফ গলবে? প্রশ্নের জবাবে বুলবুলের বক্তব্য ছিল সোজাসাপ্টা এবং স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘ভেন্যু বদলালেই তো দেশ বদলায় না। অন্য ভেন্যুও তো ভারতই। ভেন্যু নিয়ে আলাদা করে আমাদের কোনো কথা নেই।’
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ নিয়ে বিসিবি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। আপাতত, বিসিবি ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শুরুতে ছিল।
এই সংকটের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপড়েন। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরই দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে শীতলতা দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে চায় না বাংলাদেশ। বিকল্প হিসেবে আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। একইভাবে নীরব ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। শুক্রবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়ে দেন, বিষয়টি সম্পূর্ণই আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত। তারা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের ডামাডোলের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে এখন এক দুরুদুরু অপেক্ষা। সিদ্ধান্ত আসবে কি বদলাবে? নাকি অনড় থাকবেই বিসিবি? উত্তর মিলবে হয়তো সোম-মঙ্গলবারেই—কিন্তু ততক্ষণে জল্পনার উত্তাপ থামছে না।