এবার ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান তিনি।
স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রীসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রীসভা।’
এর আগে শনিবার রাতে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দেন। নিজের স্ট্যাটাসে শিশির মনির লিখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’
শিশির মনির পরে রোববার সকালে আরও লিখেন, ‘রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারিদল মন্ত্রিসভা গঠন করুক। বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভিতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক হউক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসনে মোহাম্মদ শিশির মনির ৬৩ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরীর কাছে হেরে যান। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি মূলত ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থা বা ওয়েস্টমিনিস্টার সিস্টেম থেকে এসেছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এই চর্চা রয়েছে। সাধারণত সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা হলো বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি বিকল্প কাঠামো, যা ক্ষমতাসীন সরকারের সমান্তরালে কাজ করে। এই ব্যবস্থার মূল কাজ হলো সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং জনস্বার্থে বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা। যদিও ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না, তবে এটি সরকারকে নিয়মিত জবাবদিহিতার মধ্যে রাখে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখে।
বাংলাদেশে প্রচলিত গণতান্ত্রিক কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো সরাসরি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংস্কারের প্রেক্ষাপটে এনসিপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের ওপর জনগণের নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করে এবং মেধা ও যুক্তিভিত্তিক রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত করে।