পুরোনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সোমবার (০৯ মার্চ) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির খুলনা বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ সরকার হাওয়ার ওপর দিয়ে আসেনি। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এই সরকার হয়নি। এ সরকারের বৈধতা এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতাও ছিল গণ-অভ্যুত্থান। যদি সরকার পুরোনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এ সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
একই মঞ্চে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আজ আমরা একই মঞ্চে উপস্থিত হতে পেরেছি। শত শত শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এখানে বসতে পেরেছি। জাতীয় সংসদে একসঙ্গে বসে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব আদেশ বাস্তবায়ন করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘পাড়া-মহল্লায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কমিটি গঠন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং ভয় পাওয়া যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংসদ অধিবেশন বসার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হলে জাতীয় সংসদের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।’
খুলনায় ভারত নির্মিত একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এটি দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানান। এ সময় তিনি শ্রীলঙ্কার উদাহরণও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি, অথচ সরকারি দলের সদস্যরা সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। অতীতেও অনেকে সংবিধানের দোহাই দিয়েছিলেন এবং তাদের পরিণতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হয়ে যে দল নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে, তারা এখন সংস্কারের বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও এখনো শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ নিয়েও কথা বলবে।’
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম, ডক্টরস এলায়েন্সের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মনিরুজ্জামান এবং খুলনা-১ আসনে ১১ দলীয় জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী।
আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ওয়াহিদ উজ জামান।