বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) অবৈধভাবে নিয়োগের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসি বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, তথ্য এবং প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের পাঠানো অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে প্রকাশ পায়।
সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলোতে চাকরিবিধি, নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই স্বেচ্ছাচারীভাবে নিয়োগ প্রদানের বিশদ তথ্য উঠে আসে অডিট প্রতিবেদনে। বারবার ব্যাখ্যামূলক জবাব চাওয়ার পরেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে অডিট অধিদপ্তরকে সন্তোষজনক কোনো জবাব না দিয়ে বিষয়টিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়।
পরে, অডিট প্রতিবেদনের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর হতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ের এসএফআই অনুচ্ছেদ-০১-এ ‘নিয়োগ বিধি উপেক্ষা করে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন পদে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রদানের’ যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে গত বছর ১৬ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এই নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ জবাব প্রদানের জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান তা প্রতিপালন করেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও টেলিযোগাযোগ সেক্টরের অনিয়ম, দুর্নীতি অনুসন্ধানে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সেই টাস্কফোর্সের দাখিলকৃত শ্বেতপত্রে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে অবৈধভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। সেই শ্বেতপত্রের বরাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিগত ১৪ ডিসেম্বর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে পুনরায় অনুরোধ করে চিঠি পাঠায়। কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান সেটিও আমলে নেননি।
উপরন্তু বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া বর্তমানে উপ-পরিচালক পদে কর্মরতদের পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য ৩ নভেম্বর ডিপিসি গঠন করা হয় এবং তাড়াহুড়ো করে ঘন ঘন ডিপিসির মিটিং ডেকে পদোন্নতি প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে বিটিআরসি।
এই অবস্থায় বিটিআরসিতে কর্মরত ৬ জন উপ-পরিচালক যথাক্রমে সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ, মো. হাসিবুল কবির অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং এসএফআই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পদোন্নতি প্রদান না করার দাবি করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে আইনি নোটিস পাঠান। এরই ধারাবাহিকতায় তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ৫ মার্চ শুনানি শেষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পাঠানো ১৬ অক্টোবর এবং ১৪ ডিসেম্বর তারিখের চিঠি অনুসারে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে এবং একই সঙ্গে এসএফআই তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পদোন্নতির জন্য গত ৩ নভেম্বর গঠিত ডিপিসির কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অডিট উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালককে। আদালতে রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।