বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জির অভিনয়ে এখনও মুগ্ধ দর্শক। তাইতো তার অভিনীত নতুন ছবির মুক্তির খবরে ভক্তরা বেশ উৎফুল্ল। আগামী ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত ‘মর্দানি-৩’ নামের সিনেমাটি।
কিন্তু রানি মুখার্জির ভক্তদের জন্য খারাপ খবর হলো, সিনেমাটির সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়ার আগে কয়েকবার পরিবর্তন করা হয় সিনেমাটিকে। এর মধ্যে রয়েছে দৃশ্য, সংলাপসহ আরও কিছু।
জানা গেছে, সেন্সর বোর্ডের নির্দেশে ছবিতে একাধিক পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সেন্সর বোর্ড প্রথমেই ছবিতে মাদকবিরোধী সতর্কবার্তা যোগ করার নির্দেশ দেয়।
ছবির একাধিক দৃশ্যেও আসে সংশোধনের নির্দেশ। একটি দৃশ্যে মেয়েকে চড় মারার ভিজ্যুয়াল বদলানো হয়। ইংরেজি সাবটাইটেলে থাকা একটি অশালীন শব্দ সরিয়ে তার জায়গায় তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য শব্দ বসানো হয়। মায়ের উদ্দেশে করা একটি অবমাননাকর মন্তব্য মিউট করা হয়েছে। যৌনাঙ্গ সংক্রান্ত ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দগুলিও পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি ভারতের সরকারের প্রতি নেতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে, এমন শব্দ বা সংলাপও সংশোধনের আওতায় এসেছে। একটি দৃশ্যে কয়েকটি দেশের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বোর্ড। পাশাপাশি, অপহরণকারীদের একটি সংলাপ নিয়ে নির্মাতাদের কাছ থেকে আলাদা করে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। সবশেষে, ছবিতে শিশু ও নারী পাচার সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক সতর্কবার্তা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সমস্ত পরিবর্তন সম্পন্ন হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি ছবিটিকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। সার্টিফিকেট অনুযায়ী ছবির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩৭ মিনিট ৭ সেকেন্ড অর্থাৎ প্রায় ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ছাড়পত্র পাওয়ার প্রায় দশ দিন পর নির্মাতারা নিজেরাই ফের সেন্সর বোর্ডের কাছে যান এবং স্বেচ্ছায় আরও কিছু কাটছাঁটের আবেদন করেন। সেই অনুযায়ী ছবির ১৪টি দৃশ্য হয় সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়, নয়তো ছোট করা হয়। এর ফলে ছবির মোট দৈর্ঘ্য আরও ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড কমে যায়। বর্তমানে ‘মর্দানি ৩’-এর চ‚ড়ান্ত রানটাইম দাড়িয়েছে ১৩০ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড, অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড।
এই স্বেচ্ছা পরিবর্তনগুলিকে ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয় সেন্সর বোর্ড। একাধিক সংবেদনশীল বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে লড়াইয়ের গল্প ‘মর্দানি’ সিরিজ এতদিন বলে এসেছে, ‘মর্দানি ৩’ সেই ধারাকেই বজায় রেখে এগোচ্ছে, তবে এবার আরও নিয়ন্ত্রন পেরিয়ে, আরও নিয়ন্ত্রিত ভাষায়, আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে।