সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছে পুরো আস্তানা। অভিযানে ইতোমধ্যে চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান।
সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ অভিযান শুরু হয়েছে, যা পরদিন বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। দুই দুই যুগের বেশি সময় ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এটিই সবচেয়ে বড় অভিযান।
অভিযানের কৌশল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান চলাকালে কোনো চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডগ স্কোয়াড।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানান, যৌথবাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৫৫০ জন সেনাবাহিনী, এক হাজার ৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব ও ১২০ বিজিবি সদস্য এবং ১৫ এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ অংশ নিয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
মূলত গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর একজন নায়েব সুবেদার নিহত ও আরও তিনজন আহত হন। সে ঘটনার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জানা গেছে, সোমবার মধ্যরাতেই জঙ্গল সলিমপুরের সবগুলো প্রবেশমুখ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাহিনীর সদস্যরা।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান থেকে ফিরে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের জানান, পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুদ ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর খবর পেয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।
পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় পরে জানানো হবে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।