রাজধানীর নয়াপল্টনে স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার পর কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না ভবনটিতে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। এখনো পলাতক প্রধান শিক্ষিকা শারমিন জাহান। এদিকে মামলা করায় শিশুটির পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে নানা হুমকি-ধামকি।
স্কুলের অফিস কক্ষে শিশুকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওঠে সমালোচনার ঝড়। এই পাশবিক আচরণ করেন সেই প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান শিক্ষিকা শারমিন জাহান ও তার স্বামী ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া।
শিশুকে এমন নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতে। স্কুলটির গেট বা নামফলকের কোথাও নেই বাধ্যতামূলক ইআইআইএন (EIIN) নম্বর। আবাসিক ভবনের নিচেই শ্রেণিকক্ষ, যেখানে প্লে-গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হয়।
অন্যদিকে বাড়ির গেটে টাঙানো হয়েছে নোটিশ। প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকেই। এ বিষয়ে ভবনের কেউ কোনো কথাও বলতে রাজি হননি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা জানান, মামলা করার আগে থেকেই রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
শিশুর মা বলেন, ‘আমাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন আমরা মামলা না করি। অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছেন। আমি সঠিকভাবে বলতে পারব না তারা কারা।’
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করে বা স্কুলের বাচ্চাদের শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করলে আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
আইনজীবীরা বলছেন, শিশু নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে উদাহরণ তৈরি করতে না পারলে এমন অপরাধ কমবে না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধের কী পরিণতি হতে পারে, সেটি তৈরি করতে না পারলে এমন ঘটনা আরও বেড়ে যাবে ও দেখা যাবে নিজেদের মধ্যেই সমঝোতা হয়ে বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গড়ে প্রতিদিন তিনজন শিশু নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয় আর নিহত হয় গড়ে একজন।