এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সোমবার (৮ জুন) বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট এনবিএ ফাইনালের ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে তার এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি ভালোভাবে নেননি দর্শকদের একটি বড় অংশ।
এদিন নিউ ইয়র্ক নিক্স ও সান আন্তোনিও স্পার্সের মধ্যকার ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচটি দেখতে এলে গ্যালারির বিভিন্ন অংশ থেকে প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে জোরালো দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিক্সের প্রেসিডেন্ট জেমস ডোলানের অতিথি হয়ে ম্যাচটি দেখতে এসেছিলেন ট্রাম্প। জাতীয় সংগীত চলার সময় স্টেডিয়ামের বিশাল স্ক্রিনে প্রেসিডেন্টের মুখ ভেসে উঠতেই দর্শকদের একাংশ তাকে লক্ষ্য করে বিদ্রূপ ও দুয়োধ্বনি দেয়।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, দর্শকেরা যখন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তখন প্রেসিডেন্ট একটি লাক্সারি স্যুইটে দাঁড়িয়ে সামরিক কায়দায় স্যালুট দিচ্ছেন।
এনবিএর ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ফাইনাল ম্যাচ দেখতে মাঠে হাজির হলেন।
তবে দর্শকদের এমন বৈরী আচরণ ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার কারণে নিউ ইয়র্কে দশকের অন্যতম সেরা এই ক্রীড়া উৎসবের আনন্দ ও ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ম্লান হয়ে যায়।
ম্যাচ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প স্টেডিয়ামে পৌঁছান এবং কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি স্যুইটে বসে পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা ও জেমস ডোলানের সঙ্গে খেলা উপভোগ করেন।
প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস এবং নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং ভক্ত, খেলোয়াড় ও স্টেডিয়ামের কর্মীদের জন্য কঠোর তল্লাশি ব্যবস্থা চালু করা হয়।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর নিউ ইয়র্ক নিক্স তাদের ঘরের মাঠে এনবিএ ফাইনাল খেলছে। ফলে এই ম্যাচের টিকিট পেতে হাজার হাজার ডলার খরচ করতেও দ্বিধা করেননি সমর্থকেরা।
তবে অনেক ভক্তই অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির কারণে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যেমন জটিল হয়ে উঠেছিল, তেমনি এটি খেলার মূল আকর্ষণকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।
বাড়তি নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামে ঢুকতে বেশ বেগ পেতে হয় ব্রুকলিনের বাসিন্দা ও একটি ফিটনেস কোম্পানির মালিক এরল ইসমাইলকে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) এখানে না এলেই ভালো হতো। তিনি প্রকৃত সমর্থক নন। এখানে এসে শুধু শুধু ঝামেলা বাড়ালেন। আমরা এই দিনটির জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করেছি। কিন্তু অন্য সব কিছুর মতো এটাকেও তিনি নিজের বিষয় বানিয়ে ফেলেছেন।’