প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ২৫ মে থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে। শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ রেলওয়েকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী জেষ্ঠ নাগরিকরা ভাড়ার ভিত্তিমূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান হারে প্রযোজ্য হবে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য থেকে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। এই সুবিধা অনলাইন ও কাউন্টার—উভয় মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। এজন্য ব্যবহারকারীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
একজন জেষ্ঠ নাগরিক প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। সপ্তাহ গণনা করা হবে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী। ছাড়কৃত টিকিট ফেরত দিলে সেই অর্ডার সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং একই সপ্তাহে পুনরায় ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
জেষ্ঠ নাগরিকের সহযাত্রীর জন্য নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও প্রবীণ হলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী ছাড় সুবিধা পাবেন। এ জন্য তাকে নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আলাদাভাবে ভেরিফায়েড হতে হবে।
অন্যদিকে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে এবং যেসব ট্রেনে এসব শ্রেণি নেই সেখানে শোভন চেয়ার শ্রেণির মোট ভাড়ার ওপর বিদ্যমান ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে। পাশাপাশি সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে নতুন করে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য আপাতত শুধু স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ইস্যুর ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থাও চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র চালুর পর টিকিট মূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রেল পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বর্তমান সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬-এর নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সিটিজেনদের ট্রেনে ২৫ শতাংশ ছাড়ে ভ্রমণের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে প্রথম পর্যায়ে জেষ্ঠ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এ সুবিধা চালু করা হচ্ছে।