বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজানের প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনাটি।
জুমার নামাজে ইমামতি করেন মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
খুলনা থেকে আগত মুসল্লি ইমরান খান বলেন, ‘রমজানের প্রথম জুমা এখানে আদায় করার ইচ্ছা অনেক দিনের। এই মসজিদে নামাজ পড়লে মনে অন্যরকম শান্তি অনুভব করি।’
ঢাকা থেকে আসা মামুন শেখ বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের এই মসজিদে জুমা পড়তে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের। এত মানুষের সঙ্গে একসাথে ইবাদত করতে পেরে ভালো লাগছে।’
স্থানীয় মুসল্লি আবদুল মান্নান শেখ জানান, রমজানে প্রতি জুমায় এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারছেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি আমাদের গর্বের প্রতীক। এখানে নামাজ পড়লে মনে প্রশান্তি মেলে।’
স্থানীয় বাসিন্দা তারিক শেখ বলেন, ‘প্রতি রমজানের প্রথম জুমা আমরা এখানে আদায় করি। বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে নামাজ পড়ার আনন্দই আলাদা।’
মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন জানান, রমজান উপলক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুইজন স্বনামধন্য হাফেজ দিয়ে খতম তারাবি পড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিনশ রোজাদারের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়, আর শুক্রবারে আয়োজন থাকে আরও বড় পরিসরে।
তিনি আরও বলেন, রমজান মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন, যা এ মসজিদের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও আস্থার প্রমাণ।