নেই খালের অস্তিত্ব, তবুও নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল আকৃতির এক সেতু। এতে গ্রামবাসী সুবিধার পরিবর্তে পড়েছেন বিপাকে। তাদের অভিযোগ, যে স্থানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, সেখান থেকে অনেক আগে খালের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে।
এখন সেতু নির্মাণ করায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এছাড়া সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করছেন তারা। কেননা, সেতুর দুই পাশে রয়েছে কয়েকটি পরিবারের ঘর-বাড়ি। সংযোগ সড়ক তৈরি হলে এই পরিবারগুলোর সদস্যদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কের ফুলতলা আরএইচডি অংশে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় 'বিডিআইআরডবলুএসপি' প্রকল্পের আওতায় এই ১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা।
এমএস ইসলাম ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি এমন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে পূর্বে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। বর্তমানে স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করায় খালটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় আব্বাস হাওলাদার, মোরশেদা বেগম, জামাল, সবুজসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘এই সেতু চালু করতে গেলে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা নিতে হবে। এতে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এর সমাধান চাই।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, ‘সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’